একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। আসুন দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।"
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, বিএনপি সব ধর্মের মানুষের আস্থার প্রতীক।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রতিটি সেক্টর ছিল ভঙ্গুর। মনে হয়েছে আমরা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।" এ সময় তিনি ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য বিশেষ সম্মানি ভাতার উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান। একইসঙ্গে তারা ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং জাতীয় সংসদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রিস্টেফার মি. অধিকারী। শেষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments