Image description

সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও হাহাকার দেখা দিলেও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে আগামী দুই মাসের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ নিশ্চিত আছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “জনগণ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছে, যা কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছে। পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।” তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সৌদি আরবও বিকল্প রুটে আরও এক লাখ টন তেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে কিলোমিটার ছাড়ানো দীর্ঘ লাইন। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হলেও তেল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ও পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, “ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। আগে যারা ২ লিটার নিতেন, তারা এখন পুরো ট্যাংকি ভর্তি করছেন। অনেকে এক পাম্প থেকে তেল নিয়ে অন্য পাম্পে গিয়ে আবারও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।”

জ্বালানি সংকটের গুজবে অনেকে বাড়িতে তেল মজুদ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কোস্টগার্ডের অভিযানে চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই ৭১ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের তেলের ধারণ সক্ষমতা থাকলেও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকার এই সক্ষমতা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২০ সালেই ৬০ দিনের সক্ষমতা তৈরির সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল, যা এখন দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দৈনিক সরবরাহ কয়েক হাজার টন বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই