দীর্ঘ ৪০ দিনের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটির ওপর আরোপিত কঠোর অবরোধ তুলে নেওয়ায় পুনরায় ইবাদত করার সুযোগ পেয়েছেন সাধারণ মুসল্লিরা। ফজরের আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল-আকসা প্রাঙ্গণে নামে হাজার হাজার মানুষের ঢল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আল-আকসা মসজিদ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। টানা ৪০ দিন এই পবিত্র স্থানে কোনো সাধারণ মুসল্লি প্রবেশ করতে পারেননি। এর ফলে জেরুজালেমের মুসলমানরা এক নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন।
অবরোধের কারণে এ বছর পবিত্র রমজান মাসের তারাবি, জুমার নামাজ এবং প্রতিদিনের নিয়মিত নামাজ আদায়ের সুযোগ পাননি মুসল্লিরা। এমনকি গত ঈদুল ফিতরের নামাজও মসজিদের ভেতরে আদায় করতে দেওয়া হয়নি। প্রধান ফটকগুলো বন্ধ থাকায় শত শত মুসল্লি বাধ্য হয়ে মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের রাজপথে দাঁড়িয়ে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছিলেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা কিছুটা প্রশমিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভোরে আল-আকসা থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে হাজার হাজার মুসল্লি আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আল-আকসায় প্রবেশ করছেন। এ সময় অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
রমজান মাসজুড়ে আল-আকসা বন্ধ রাখার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুনরায় মসজিদ খুলে দেওয়াকে প্রশান্তির বার্তা হিসেবে দেখছে বিশ্ববাসী।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments