Image description

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাত বরণের পর ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে তেহরানের রাজপথ এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তেহরানের জোমহুরি স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া বিশাল শোক মিছিলে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। এই গণজমায়েত থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অটল প্রতিরোধের বজ্রশপথ নিয়েছে ইরানের বিপ্লবী জনতা।

তসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর জোমহুরি স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া শোক মিছিলটি আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতস্থলে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিপ্লবী পথের প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করে স্লোগান দেন এবং শোকগাথা পাঠ করেন। জনতা এই সমাবেশকে ‘শত্রুশক্তির নৃশংসতার বিরুদ্ধে এক গর্জনময় প্রতিবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর উসকানিমূলক হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই সময় আগ্রাসনের শিকার হয়ে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হলে ইরানে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা শত্রুপক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করে।

তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পর গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনএসসি) একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংহত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, ত্যাগ এবং তিতিক্ষা জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের এক ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে ইরানের ভবিষ্যৎ পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর