Image description

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ না হয়েও ভুল অস্ত্রোপচার ও ভুয়া পদবিধারী এক চিকিৎসকের অবহেলায় আরিফা আক্তার মিষ্টি (২৫) নামে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দেয়। পরে ৬ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা হওয়ার পর রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

নিহত মিষ্টি নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালামাসিপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন আপেলের মেয়ে এবং বেরুবাড়ী ইউনিয়নের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। তিনি সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা ও এক নবজাতক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ প্রসব ব্যথা নিয়ে মিষ্টিকে নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. আমজাদ হোসেন তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অভিযোগ উঠেছে, ডা. আমজাদ নিজেকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে গাইনি বিশেষজ্ঞ নন। অস্ত্রোপচারের সময় তিনি প্রসূতির পেটে ‘ফুল’ (প্লাসেন্টা) রেখেই সেলাই করে দেন।

সপ্তাহখানেক পর মিষ্টির প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে আবারও ওই ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডা. আমজাদের তত্ত্বাবধানেই গত ৭ এপ্রিল তাঁকে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ এপ্রিল পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে পচা প্লাসেন্টা বের করা হয়। ততক্ষণে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় মিষ্টিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

রোববার সকালে মরদেহ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় মাতব্বর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আপস করা হয় এবং বিকেলেই মরদেহ দাফন করা হয়।

ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী রাশেদ হোসেন ও আখের আলী জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী ও হাফিজুর রহমানের মধ্যস্থতায় ৬ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। তাঁরা আর ক্লিনিক চালাবেন না বলেও জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করছি।”

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গাউসুল আজম চৌধুরী জানান, ডা. আমজাদ হোসেন গাইনি ডাক্তার নন এবং তাঁর কোনো সহকারী অধ্যাপকের পদবিও নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর