৩০০০ হাদিস মুখস্থ করে বিস্ময় সৃষ্টি করলেন ছারছীনার ছাত্র ফারুক
শরতের স্নিগ্ধতা আর নিঝুম রাতের নির্জনতাকে সাক্ষী রেখে এক অনন্য আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন এক তরুণ। সেই নিষ্ঠা আর একাগ্রতার ফলশ্রুতিতে আজ পিরোজপুরের ছারছীনা শরীফের পবিত্র আঙিনায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাজারো অমর বাণী। ছারছীনা দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ইফতা বিভাগের মেধাবী ছাত্র মুহাম্মদ ইমরান ফারুক কেবল ৩০০০ হাদিস মুখস্থই করেননি, বরং ইসলামের শাশ্বত জ্ঞানকে নিজের হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন।
ইমরানের এই অভাবনীয় যাত্রার নেপথ্যে ছিল ওস্তাদ আব্দুল গফফার কাসেমী রাজাপুরী হুজুরের একটি উৎসাহমূলক কথা। তিনি বলেছিলেন, "৬০০ হাদিস শুনাতে পারলে আমি তাকে হাফিজুল হাদিস উপাধি দেব।" ওস্তাদের এই কথাটিই ইমরানের মনে স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়। সেই থেকে শুরু হওয়া পথচলায় গত পাঁচটি বছরের প্রতিটি প্রহর তিনি ব্যয় করেছেন বুখারী, মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তাহর পাতা উল্টে। ১০০০, ২০০০ পেরিয়ে অবশেষে ছারছীনার ছোট হুজুরের (মা.জি.আ.) অনুপ্রেরণায় সিহাহ সিত্তাহর হাশিয়া (টীকা) সহ ৩০০০ হাদিসের এক বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেন তিনি।
সম্প্রতি ছারছীনা দরবার শরীফের এক রূহানি মাহফিলে উপস্থিত আলেম-ওলামাদের সামনে একের পর এক হাদিস শুনিয়ে বিস্ময় জাগান ইমরান। এই বিরল অর্জনে মুগ্ধ হয়ে ছারছীনা দরবার শরিফের পীর, আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছার উদ্দিন আহমদ হোসাইন তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এই অভাবনীয় মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ পীর সাহেব তাকে 'পবিত্র ওমরাহ' পালনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পীর সাহেব বলেন, "যে নবীজির (সা.) রওজা মোবারকের সামনে গিয়ে সালাম দেওয়ার সৌভাগ্য পাবে, সেই তো জগতের সবচেয়ে সফল মানুষ। এই ছেলেটি যখন তার মুখস্থ করা হাদিসগুলো নিয়ে মদিনার কদমে দাঁড়াবে, সেটিই হবে আমাদের মাদ্রাসার আসল সার্থকতা।"
ইমরান ফারুক আজ কেবল একজন ছাত্র নন, বরং তিনি বর্তমান সময়ের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তার শিক্ষকরা মনে করেন, ইমরান প্রমাণ করেছেন যে একাগ্রতা আর আধ্যাত্মিক সাধনা থাকলে আজও ইসলামের সোনালী যুগের সেই মুখস্থ শক্তির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
৩০০০ হাদিসের নূর হৃদয়ে ধারণ করে ইমরান এখন প্রস্তুত হচ্ছেন প্রিয় নবীজির (সা.) রওজা পাকের সামনে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে সালাম জানাতে। তার এই সাফল্য দেশের কওমি ও দ্বীনিয়া মাদ্রাসা অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments