জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের (CPD-59) ৫৯তম অধিবেশনে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন হ্রাসে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। অধিবেশনে গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিউইয়র্কে আয়োজিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণা অপরিহার্য। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এখনও ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই ডিজিটাল বিভাজন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments