Image description

জ্বালানি তেল সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুতে। ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেতুর টোল আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। রোববার (১৯ এপ্রিল) পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সবশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মার্চ মাসের তুলনায় চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার ২৪৯টি যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক গড় যান চলাচলের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩০৩টিতে। অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যান চলাচল কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

যান চলাচল কমে যাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে টোল আদায়ের ওপর। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩২ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে তা কমে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ টাকায় নেমে এসেছে। শতাংশের হিসেবে গত মাসের তুলনায় রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তী সময়ে যান চলাচল বাড়ার কথা থাকলেও তেলের অভাবে ব্যক্তিগত কার ও জিপ চলাচল কমে যাওয়াই এই রাজস্ব হ্রাসের প্রধান কারণ।

সরেজমিনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মেসার্স হাসান মাহমুদ নায়েব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে আসা যানবাহনের এক কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ লাইন। সেখানে অপেক্ষমাণ গাড়িচালক মো. রেজাউল জানান, প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় সিরিয়াল শেষে পাম্পের সামনে গিয়ে শুনতে হয় তেল শেষ। এতে জরুরি কাজে ঢাকা যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এনজিও কর্মী জায়েদ জানান, তেলের অভাবে কিস্তি আদায়ের কাজে বের হতে পারছেন না, দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে তেল সংগ্রহের চেষ্টায়।

উল্লেখ্য, এর আগে ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে যান চলাচল এবং রাজস্ব আদায়ে যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের এই আকস্মিক পতন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় যান চলাচল ও রাজস্ব আদায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই