বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব, যার সঙ্গে মিশে আছে পান্তা-ইলিশের চিরায়ত ঐতিহ্য। এই বৈশাখী আমেজেই প্রকাশিত হয়েছে কবি, লেখক ও গবেষক মো. হাবিবুর রহমানের নতুন গ্রন্থ ‘টেল অব হিলশা এন্ড এ বয়’ (Tale of Hilsa and A Boy)। ইলিশ, নদী ও এক কিশোরের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে রচিত এই বইটি সমকালীন কিশোর সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশের প্রধান নদী মেঘনার অববাহিকার একটি দ্বীপের বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক সংগ্রাম, স্বপ্ন ও রোমাঞ্চ এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র কিশোর মুসতাকিম খালেদ। অল্প বয়সে পিতাহারা এই কিশোর পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে মাছ শিকারে জড়িয়ে পড়ে। মায়ের অনুপ্রেরণা আর শিক্ষকদের উৎসাহে তার মধ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন নিয়ে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
বইটিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের অনন্য রূপ ফুটে উঠেছে। জ্ঞানতৃষ্ণা ও চিন্তার বিকাশ কীভাবে একজন কিশোরের জীবন বদলে দিতে পারে, লেখক তা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি উপন্যাসের আরেক চরিত্র ‘সালাউদ্দিন’-এর উপস্থিতি এবং পশুপাখির প্রতি খালেদের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাঠককে মুগ্ধ করবে।
কেবল গল্প নয়, এই গ্রন্থে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নদ-নদীর জীর্ণ দশা, পানি সংকট এবং পরিবেশের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের বাস্তব চিত্র। লেখকের বর্ণনায় নদী কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একটি সভ্যতার প্রাণসত্তা। বইটিতে যুক্ত করা নদ-নদী ও প্রকৃতির বিভিন্ন নকশা ও চিত্র পাঠকদের বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চিন্তার খোরাক যোগাবে।
মো. হাবিবুর রহমান রচিত এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ‘দ্য রিজিওনাল রিপোর্টিং সোসাইটি’ (TRRS)। বইটির সম্পাদনা করেছেন ফররুখ খসরু। ৪০০ টাকা মূল্যের বইটি দেশের শীর্ষস্থানীয় লাইব্রেরি ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি (Rokomari) এবং আমাজন (Amazon)-এ পাওয়া যাচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে এমন সৃজনশীল সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পাঠ্য হিসেবে বইটি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তুলেছেন অনেকে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments