Image description

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ভাতিজাকে ছুরিকাঘাত এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে বকুল বেগম (৫৫) নামে এক প্রতিবেশী নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক হেলিম মিয়া (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আশিক মিয়ার ছেলে হেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। বুধবার দুপুরে তাকে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলেন তার ভাতিজা সাইদুল ইসলাম (২৫)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলিম ধারালো ছুরি নিয়ে সাইদুলের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে সাইদুল দৌড়ে প্রতিবেশী বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেন। তবে ঘাতক হেলিম সেখানেও ধাওয়া করে ঢুকে পড়ে এবং সাইদুলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় গৃহকর্ত্রী বকুল বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে হেলিম তাকেও বুক ও পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই বকুল বেগমের মৃত্যু হয়।

চিৎকার শুনে সাইদুলের ভাই আমিনুল ইসলাম ও বকুল বেগমের জামাতা ওয়াদুদ মিয়া এগিয়ে এলে হেলিম তাদের ওপরও হামলা চালায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

রহিমপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "হামলাকারী হেলিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও উশৃঙ্খল লোক। এর আগেও সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জেল খেটেছে। তার এই তান্ডবে একটি নিরীহ পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।"

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক হেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর