উন্নয়নের গগনবিদারী স্লোগান যত জোরেই উচ্চারিত হোক না কেন, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের একটি সড়কের বর্তমান চিত্র সেই দাবিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থেকে আজ এমন এক জীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি যাত্রা মানেই অনিশ্চয়তা, আর প্রতিটি পদক্ষেপ মানেই মৃত্যুঝুঁকি। এখানকার মানুষ শুধু চলাচল করে না, বরং প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে পথ পাড়ি দেয়।
উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা অভিমুখী এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। অথচ যে পথ একসময় স্বস্তির প্রতীক ছিল, আজ তা ভাঙাচোরা আর ক্ষতবিক্ষত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—উন্নয়নের আলো এই জনপদে পৌঁছাবে কবে?
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিনের অযত্নে সড়কের ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও রাস্তা উঁচু, কোথাও নিচু—ফলে ভ্যান, ইজিবাইক ও নসিমন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল করিম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে জীবন হাতে নিয়ে বের হওয়া। প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হয়, চাকা পাংচার হয়। আমাদের দেখার কেউ নেই।”
ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী বলেন, “ভোটের সময় সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু পরে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা শুধু রাস্তার পাকা করার প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি, কাজ দেখি না।”
অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া যে কতটা কষ্টের, তা বর্ণনা করতে গিয়ে গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “জরুরি কোনো রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের এই রাস্তা দিয়ে নেওয়া রীতিমতো ভয়ের ব্যাপার। ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
এলাকাবাসীর দাবি, নামমাত্র ইটের সলিং নয়, সড়কটিকে টেকসইভাবে পাকা (পিচ ঢালাই) করতে হবে। কারণ, এই সড়কটির সঙ্গে অত্র এলাকার কয়েক হাজার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি জড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে ৫নং সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পীযূষ কান্তি মন্ডল বলেন, “আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা অভিমুখী সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার বা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কতদিন এই জনপদের মানুষকে অবহেলার এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে? উন্নয়নের আলো যদি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথকে মসৃণ করতে না পারে, তবে সেই উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা কোথায়? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ হস্তক্ষেপই এখন আমুরকাটাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments