জনগণকে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন ঠিক বিপরীতটাই করছেন তিনি। যুদ্ধ থামানোর আশ্বাস দিলেও ব্যর্থ হয়েছেন। এতে তার কথায় আস্থা রাখা যায় না বলেই জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে ইরানে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নানান বক্তব্য আর বাস্তবতার সঙ্গে সেগুলোর মিল না থাকা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সিএনএন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের ভুল তথ্য দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এমনকি ইরানের স্পিকার গালিবাফ অভিযোগ করেন, এক ঘণ্টায় ট্রাম্পের ৭টি দাবিই ছিল মিথ্যা।
নির্বাচনি প্রচারে নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা, লেবানন ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের জেরে তার এই অবস্থান ভোটারদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রেখেছিল।
কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার ১৫ মাস পরও ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত থামাতে পারেননি ট্রাম্প। গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েলের হামলা থামেনি। পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেড়েছে আগ্রাসন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ৯টি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করলেও বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব দাবির বাস্তবতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ইরানে দুই দফা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ট্রাম্পের শান্তির প্রতিশ্রুতি এখন অনেকের কাছেই ফাঁকা বুলি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা হারিয়েছে তেহরান। পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার মধ্যেই হামলার ঘটনা দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তোলে।
টানা ৪০ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুদ্ধবিরতি হলে, নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন ট্রাম্প। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা এ দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সোমবারই ইরানের সাথে একটি চুক্তি হচ্ছে বলে আগেই প্রচার করেন ট্রাম্প। অথচ তখনো তেহরানকে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় রাজিই করাতে পারেননি তিনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যে সময়ে তিনি জানান ভ্যান্স ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট তখনও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই ছিলেন বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।




Comments