নড়াইল পৌর এলাকায়র চিত্রা সেতুর বরাশুলা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে পলি খানম (২২) ও তার এক বছর বয়সী শিশু সন্তান ফুরকানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত পলি খানম নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মূলদ্বাড় গ্রামের বাবুল ভূইয়ার ছেলে নুর ইসলামের স্ত্রী এবং নিহত শিশু ফুরকান তাদের সন্তান।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে পলি খানমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সবাই নিজ নিজ কাজে চলে যান। দুপুরে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী একটি ট্রেন চিত্রা সেতুর বরাশুলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী নুর ইসলাম জানান, “আমাদের মধ্যে তেমন কোনো ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটলো, এটা দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু—আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”
নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পলি খানম কিছু সময় ধরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে রেললাইনের ওপর হাঁটাহাঁটি করছিলেন। পরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী রুপালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি শিশুসহ লাইনের ওপর বসে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পলি খানমের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যশোর থেকে রেলওয়ে পুলিশ এসে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পলি খানম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।




Comments