এসএসসি পরীক্ষার মাঝেই উচ্চস্বরে গান-বাজনা, পড়াশোনা বিঘ্নিত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় উচ্চস্বরে গান-বাজনা এবং বাউল গানের নামে অশ্লীল আসর নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমের উচ্চ শব্দে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কথিত বাউল গানের আসরের নামে এক শ্রেণির অসাধু চক্র অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বিপথগামী হচ্ছে যুবসমাজ।
হরিশ্যামা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী অঞ্জনা শীল এবং আফজলপুর গ্রামের আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “বাড়ির পাশে উচ্চ শব্দে গান বাজার কারণে বইয়ের পাতায় মন বসানো যাচ্ছে না। সারাদিন ও রাতে বিরতিহীন এসব আসরের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আমাদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমদ সালমান বলেন, “সুস্থ সংস্কৃতির নামে এই অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতা বন্ধ না হলে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব আয়োজনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা।”
প্রবীণ বাউল সাধক দেওয়ান কলিম শা আক্ষেপ করে বলেন, “বাউল গান ছিল আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার শুদ্ধ প্রতীক। সেখানে কোনো অশ্লীলতার স্থান ছিল না। কিন্তু বর্তমানে কিছু তথাকথিত শিল্পী বাউল গানের নামে যে আচার-আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছেন, তাতে নিজেকে বাউল বলতেও আজ লজ্জা হয়।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীদের শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা উচ্চস্বরে শব্দ দূষণ করবে কিংবা অশ্লীলতা ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং অপসংস্কৃতি রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments