রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ফুয়েল লোডিং কমিশনিং লাইসেন্স’। কিন্তু এই লাইসেন্স আসলে কী এবং এর কারিগরি গুরুত্ব কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর বা চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন করার আইনি ও কারিগরি অনুমতিই হলো এই লাইসেন্স। এটি পাওয়ার অর্থ হলো—স্থাপনাটি জ্বালানি গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরাপদ ও প্রস্তুত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফুয়েল লোডিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। চুল্লিতে সব জ্বালানি স্থাপন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। এরপর শুরু হয় ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক উৎপাদন, যা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিনক্রোনাইজেশন, টারবাইন জেনারেটর এবং ইমার্জেন্সি সাপোর্ট সিস্টেমগুলো নিখুঁতভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের ফলে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে চুল্লিটি ৯০ শতাংশ সক্ষমতায় টানা ১৮ মাস চলবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য একটি চক্র সম্পন্ন হবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। এর মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জরুরি স্থানান্তর পরিকল্পনা (ইভাকুয়েশন প্ল্যান) পর্যন্ত সবকিছু অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন,
"আইএইএ-এর সব নির্দেশনা মেনেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে। নিরাপত্তার সব দিক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।" পরমাণু শক্তি কমিশনও জানিয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রতিটি কারিগরি ধাপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments