প্রতীকী ছবি
দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী। তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সেই ছক আপাতত ভেস্তে গেছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনসমাগমস্থলে হামলার পরিকল্পনার পাশাপাশি অস্ত্রাগার লুটের মতো ভয়াবহ ছক কষেছিল তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রতি 'দাওলাতুল ইসলাম' নামক উগ্রবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ ওরফে আবু মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দাদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই গ্রুপটি শাহবাগ চত্বরে জনসমাগম, বিনোদন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার লুট করে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতিও ছিল তাদের।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চক্রের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য এবং বিপথে যাওয়া কয়েকজন বর্তমান সদস্যের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায়:
চট্টগ্রাম থেকে এক মসজিদের ইমামকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ঢাকার ধামরাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাকিব হোসেন ওরফে উবাইদা আল ওসামা নামে এক তরুণকে।
সিলেটের মাহেদ নামে এক যুবকসহ আরও বেশ কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে।
জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কিছুটা ভিন্নধর্মী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমি 'জঙ্গি উত্থান' শব্দটিকে রিকগনাইজ করি না। তবে কিছু এক্সট্রিমিস্ট বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, আমাদের এখানেও থাকতে পারে।"
তিনি আরও জানান, বাহিনীর ভেতর কেউ উগ্রবাদে জড়ালে তাদের শনাক্ত করতে ইন্টারনাল ইন্টেলিজেন্স কাজ করছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, "বাংলাদেশে জঙ্গি আছে—এটি একটি ফ্যাক্ট। বিগত সরকার বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে উগ্রবাদীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। সরকার এগুলো কঠোরভাবে কমব্যাট করবে।"
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, শুধু উগ্রবাদী নয়, সীমান্ত এলাকার কয়েকটি জেলায় নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরাও নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আত্মসমর্পণ করা কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তৃতীয় কোনো পক্ষ ইন্ধন দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক খালিদুল হক হাওলাদার জানিয়েছেন, বর্তমানে বড় কোনো হামলার নির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারি অফিস ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেশের সব বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments