ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম এ বছর প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত পণ্যবাজার বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির এই উচ্চমূল্যের প্রভাবে সামগ্রিকভাবে অন্যান্য পণ্যের দামও প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহকারী পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে সরবরাহ প্রায় এক কোটি ব্যারেল কমে গেছে। এই সংকটের প্রভাবে ২০২৬ সাল নাগাদ সারের দাম ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার মূল কারণ ইউরিয়ার দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের মতো বেস মেটাল এবং মূল্যবান ধাতুর দামও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনদারমিত গিল বলেন, "এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানছে এবং এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং পরবর্তী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জ্বালানি বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব কাটেনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম টানা তিন কার্যদিবস বেড়েছে। বুধবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডব্লিটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৩৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.৩৫ ডলার এবং লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দাম ৩.৬৬ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় তেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
জ্বালানি পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’র বিশ্লেষক জর্জ লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বিপদ সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের বেশি তেলের দাম মূলত রাজনৈতিক ঝুঁকিকেই প্রতিফলিত করে, যা বিশ্ববাজারের জন্য কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments