Image description

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচল নিয়ে সুরমা ও আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে উত্তাল হয়ে উঠেছে কচুয়া এলাকা। মঙ্গলবার (৫ মে) দিনভর দফায় দফায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় এই মহাসড়কে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, কচুয়া-গৌরীপুর রুটে চলাচলকারী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের পারমিট নেই—এমন অভিযোগে সকালে জগতপুর এলাকায় সুরমা পরিবহনের শ্রমিকরা তাদের বাস চলাচলে বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে দুপুর ২টার দিকে আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের শ্রমিকরা পবি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কালিয়া পাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে সুরমাসহ অন্যান্য পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বাস বন্ধ থাকায় তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এই সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনে ৪শ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দুই পরিবহনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ কেন শাস্তি পাবে?

সুরমা পরিবহনের শ্রমিকদের দাবি, আল-আরাফাহ বাসের বৈধ পারমিট না থাকায় সার্জেন্টরা তাদের বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে আল-আরাফাহর লোকজন হাজিগঞ্জ কাউন্টারে সুরমা পরিবহনের অর্ধশতাধিক বাস আটকে রেখেছে এবং শ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের চালক ও শ্রমিকরা জানান, তারা গত দুই বছর ধরে এই রুটে বাস চালাচ্ছেন। হঠাৎ মালিকপক্ষের ইন্ধনে সুরমা পরিবহনের লোকজন তাদের বাধা দিচ্ছে। তারা চান উভয় পক্ষের মালিকরা বসে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করুক।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর