সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম মন্তব্য করেছেন যে, হলের তালা ভাঙলেই বিপ্লবী হওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, কিন্তু বর্তমানে এর অপব্যবহার হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। মানসুরা আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাস একবারই এসেছিল। তখন ছাত্রীদের হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে আসাকে সারা দেশের মানুষ সমর্থন দিয়েছিল কারণ সেটি ছিল অপশাসনের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, "এরপর যতবার তালা ভেঙে বের হওয়া হয়েছে, ততবারই তা হয়েছে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সার্ভ (সেবা) করতে। ব্যাপারটা এখন হাস্যকর পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।" শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, "তালা ভেঙে বের হলেই বিপ্লবী হওয়া যায় না, তা এই মেয়েদের কেউ বোঝান। দুই দিন পরেই তারা উপলব্ধি করবে যে তাদের ব্যবহার করা হয়েছিল।"
রাজনীতিতে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ না থাকা এবং মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "রাজনীতিতে মেয়েদের কেন অংশগ্রহণ নেই, কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নমিনেশন পান না, সেই মাইন্ডসেট জানতে এই তালাভাঙা পার্টিকে দেখতে হবে।" তার মতে, এই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই জানে না তারা কী চায়, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড পরোক্ষভাবে মেয়েদের রাজনৈতিক পথকে সংকুচিত করতে চাওয়া গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য পূরণ করছে।
মানসুরা আলম আরও মন্তব্য করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখন বুঝতে পারছেন যে তারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। এই উপলব্ধি ভবিষ্যতে অন্যদের মাঝেও আসবে বলে তিনি মনে করেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments