Image description

শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। দুই পা অচল হলেও থেমে নেই তার শিক্ষার লড়াই। কাঠের তৈরি কৃত্রিম পায়ে ভর করেই নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছে মেধাবী শিক্ষার্থী হাসনাদুল হক। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সারিসুরি চরের এক হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসনাদুলের এই জীবনযুদ্ধ এখন এলাকাবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।
হাসনাদুল নুনখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। সে ওই এলাকার দিনমজুর আহর উদ্দিন ও হালিমা দম্পতির ছোট ছেলে। গঙ্গার নদের তীরে মাত্র ১৬ শতক জমিতে তাদের বসতভিটা। চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় দুই ভাই বিয়ে করে পৃথক সংসার গড়েছেন এবং দিনমজুরি করে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র শিক্ষিত মুখ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হাসনাদুল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসনাদুল জন্মগতভাবেই হাড়ের সমস্যায় ভুগছিল। এর ওপর ২০১৬ সালে বৃষ্টির দিনে পিছল রাস্তায় এক দুর্ঘটনায় তার দুই পা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। দরিদ্র বাবা ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব। উন্নত চিকিৎসার অভাবে বর্তমানে কাঠের পায়ে ভর দিয়েই প্রতিদিন বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলে যাতায়াত করে সে।
হাসনাদুলের বাবা আহর উদ্দিন ও মা হালিমা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের পরিবারের কেউ পড়াশোনা জানে না। একমাত্র ছোট ছেলেটার অনেক পড়ার ইচ্ছা। দুর্ঘটনায় পা হারানোর পর আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে ওর চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু ওকে স্বাভাবিক করতে পারিনি। এখন আমরা নিঃস্ব। সমাজের বিত্তবান ও সরকার যদি একটু সাহায্য করতো, তবে হয়তো আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারতো।"
আব্দুল আলীম, আলী হোসেন, লিমন মিয়া বলেন, হতদরিদ্র পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা মেধাবী ছাত্র হাসনাদুল হক ছোটকাল থেকে শরীরের হাড়ে ভঙ্গু ও দুর্ঘটনায় দু' পা অচল হওয়ার পরেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিদিন বাড়ী থেকে দেড় কিলোমিটার কাঠের পায়ে ভর করে নুনখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন। সে অত্যন্ত মেধাবী ও মায়াভরা ছেলে। এ সমাজের বৃত্তবান সহ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পেলে হাসনাদুল স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
নুনখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম সরকার বলেন। হাসনাদুল হক ২০১৭সালে প্রথম শ্রেণী থেকে ২০২১সাল পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সুনামের সাথে লেখাপড়া শেষ করেন। সে অত্যন্ত মেধাবী এবং ভালো ছাত্র। ২০২২সালে নুনখাওয়া উ”চ বিদ্যালয় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং বর্তমানে সে নবম শ্রেণীর ছাত্র।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, হাসনাদুলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিজস্ব ভাবে এবং উপজেলা সকল শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সকলে মিলে আর্থিকভাবে সহযোগীতা প্রদান করা সহ সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন। মেধাবী ছাত্র হাসনাদুলের অদম্য ইচ্ছে শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে সমাজের বৃত্তবানদের আর্থিক সহায়তাও পারে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরিয়ে আনতে।