ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও ধরলা নদের পানি বৃদ্ধির আর তীব্রতায় ভাঙছে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন
ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও ধরলা—এই চার নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, খোদ ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়ার বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ১৫ দিনে এই ইউনিয়নের মুসুল্লিপাড়া, সরকারপাড়া, ব্যাপারীপাড়া ও রসুলপুর গ্রামের প্রায় ৫০টি বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাট সংলগ্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদ একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। প্রতি বছর এই তিন নদীর তোড়ে এখানকার প্রায় ৩০০ পরিবার গৃহহীন হয়। বর্তমানে মোল্লারহাট মালেক মেম্বারের বাড়ি থেকে দক্ষিণে কবিরাজপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো বর্তমানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার হেলাল মিয়া ও নাজির হোসেন বলেন, "নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের এই কষ্ট এখানে না আসলে কেউ বুঝবে না।" স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী ও নূর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কুড়িগ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র ইউনিয়ন বেগমগঞ্জ কি সারাজীবন এমনই থাকবে? আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ চাই।"
বেগমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, "গত এক বছর আগে ধরলা নদীতে আমার আগের বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ ৬-৭ মাস অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি এলাকা হুমকির মুখে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে এই ইউনিয়নটি হারিয়ে যাবে।"
ভাঙনের বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, "নদী ভাঙন রোধে আমরা জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে বর্তমানে জিও ব্যাগের কিছুটা সংকট রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, প্রায় ১৪ হাজার ভোটার ও ৭ হাজার পরিবারের এই জনপদটি এখন অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments