দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার ‘থালাপতি’ বিজয় এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির নতুন অধিপতি। সাধারণ অভিনেতা থেকে এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর আগে বিজয়ের জীবন ছিল টানাপোড়েন আর নাটকীয়তায় ঠাসা। এমনকি রাজনীতির ময়দানে নামার আগে নিজের জন্মদাতা বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেই আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন এই অভিনেতা।
রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তার দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চমক হলেও, এর নেপথ্যের ইতিহাস বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
২০২১ সালে পুরো ভারতজুড়ে শোরগোল পড়ে যায় যখন বিজয় তাঁর বাবা এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা চন্দ্রশেখরসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তাঁর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে ‘অল ইন্ডিয়া থালাপতি বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামক ফ্যান ক্লাবকে রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিজয় তখন সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর নাম, ছবি ও বিশাল ফ্যানবেজ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
সেই সময় বিজয়ের বাবা চন্দ্রশেখর বলেছিলেন, বাবা-ছেলের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে, যা পরবর্তীকালে মিটে যাবে। বিজয়ের মা শোভাও স্বীকার করেছিলেন যে, ছেলের সম্মতি ছাড়াই তাঁরা ওই রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
মজার ব্যাপার হলো, একসময় নিজের নাম রাজনীতিতে ব্যবহার করতে দিতে নারাজ সেই বিজয়ই ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
আর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তামিল রাজনীতির দুই মহীরুহ ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের আধিপত্য চুরমার করে দিয়ে মসনদে বসলেন তিনি। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার এই রূপকথার যাত্রা এখন তামিলনাড়ু ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
সূত্র: ইয়ন
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments