শখ থেকে শিল্প, নেত্রকোনায় হাঁসের হ্যাচারিতে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান
নেত্রকোনার মদন উপজেলার কুটুরীকোণা গ্রামে ব্যক্তিগত শখ থেকে শুরু হওয়া একটি উদ্যোগ আজ এক বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাঁসের হ্যাচারি শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন লক্ষাধিক মানুষ, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
হাওরাঞ্চল হওয়ায় বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এখানকার জমি পানির নিচে থাকে। বর্ষা মৌসুমে কৃষি ও অন্যান্য কাজে স্থবিরতা আসায় একসময় শ্রমজীবী মানুষরা দিশেহারা হয়ে পড়তেন। সেই সংকটকালে ‘নাজাহ হাঁসের খামার ও হ্যাচারি’ স্থানীয়দের জন্য আশার আলো হয়ে দেখা দেয়। ১৯৯০ সালে মাত্র ১২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ইদ্রিস মিয়া এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তাঁর এই খামারে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকায়।
ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও বর্তমান পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাবা খুব ছোট আকারে শুরু করেছিলেন। আমরা এখন এটি বড় পরিসরে পরিচালনা করছি। আমাদের এই গ্রাম দেখে এখন অনেক পরিবার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। আমার জানামতে, সারা দেশে এই খাতের মাধ্যমে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সঠিক সরকারি সহযোগিতা ও পরিচর্যা পেলে এ খাত থেকে আরও বড় অর্জন সম্ভব।”
হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদনের পদ্ধতিটি বেশ বৈচিত্র্যময়। কোনো আধুনিক ইনকিউবেটর নয়, বরং হ্যারিকেনের আলো ও তুষের তাপে অভিজ্ঞ কারিগরদের নিপুণ তত্ত্বাবধানে ২৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বের হয় হাঁসের বাচ্চা। প্রতি বছর এই গ্রাম থেকে প্রায় ৩ কোটি হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
এ উদ্যোগের প্রশংসা করে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ ধরনের খামার গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। বেকারত্ব দূর করতে এ উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুটুরীকোণা গ্রামটি এখন সারা দেশে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments