আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন, নিজে আমল না করে অন্যকে উপদেশ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গর্হিত কাজ। ইসলামে কথা ও কাজের মিল থাকা মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিজের জীবনে প্রতিফলন না রেখে অন্যকে দেওয়া উপদেশ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।
রোববার (১০ মে) রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানাধীন নিশাতনগর ভাটুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আয়োজিত এক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর ছাহেব কেবলা বলেন, “যে আমল আপনার নিজের ভেতরে নেই, সে আমল অন্য কাউকে করতে বলবেন না। আমরা অনেক সময় অন্যকে ভালো কাজের পরামর্শ দেই, কিন্তু নিজের জীবনে তা পালন করি না। এই দ্বিমুখী আচরণ শুধু সামাজিকভাবেই লজ্জাজনক নয়, বরং এর ফলে মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি তৈরি হয় এবং মানুষের আমলনামা শূন্য হয়ে পড়ে।”
উপদেশের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি নিজে মিথ্যা বলেন আর অন্যকে সত্য বলতে উৎসাহিত করেন, তবে সেই কথা কারো হৃদয়ে স্পর্শ করবে না। উপদেশের কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্যক্তির ‘ইখলাস’ বা নিষ্ঠার ওপর। যখন কেউ নিজে আমল করে অন্যকে নসিহত করে, তখন সেই কথার মধ্যে এক ধরণের ‘তা’ছীর’ বা অলৌকিক প্রভাব তৈরি হয়।”
তিনি আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, অন্যকে সংশোধন করার আগে নিজের নফস বা আত্মাকে সংশোধন করা জরুরি। কোনো ভালো কাজ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করলে সেটি নিয়ে অন্যকে বলার নৈতিক সাহস ও অধিকার তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে আমাদের কথা ও কাজের অমিলই সমাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তির অন্যতম কারণ। তাই অন্যকে দাওয়াত দেওয়ার আগে সেটি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।
বাদ আছর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও আলোচনা করেন— বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ এবং বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব। এছাড়া পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন।
মাহফিল শেষে পীর ছাহেব কেবলা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।




Comments