Image description

ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব ততই ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের বীভৎসতা ও ধ্বংসলীলার আড়ালে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামোতে কিছু মৌলিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা ও বিপুল প্রাণহানির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা কঠিন, তবুও বর্তমান সংকট জ্বালানি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব এখন তার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে মাত্র ২৩ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দীর্ঘকাল ধরে ‘চোকপয়েন্ট’ বা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ বাড়ছে। এই যুদ্ধের ফলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে যেখানে ইরান এককভাবে বিশ্ব তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ হারাবে।

প্রকৃতপক্ষে, অর্থনীতির পতন যত তীব্র হচ্ছে, এই পরিবর্তনগুলো দ্রুত কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও তত বাড়ছে। এই যুদ্ধের একটি বড় প্রভাব হতে পারে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’-এর ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংঘাতের ফলে ওপেক আরও সংকুচিত হতে পারে কিংবা বিলুপ্তির পথে এগোতে পারে। আর এমনটি ঘটলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বের দ্রুত রূপান্তর। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনবে এই যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন অর্থনৈতিক বিন্যাস।

তবে এই সংঘাত নিরসনে কোনো কার্যকর সমঝোতা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব বা ইসরায়েল ইরানকে যতটা দুর্বল ভাবছে, বাস্তবতা হয়তো ভিন্নও হতে পারে। ইরান তার প্রভাব বজায় রাখতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং শত্রুদের জন্য হুমকি হিসেবে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ বিশ্বকে এক নতুন অর্থনৈতিক বলয়ের দিকে নিয়ে যায় নাকি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নিমজ্জিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র : সিএনএন

মানবকণ্ঠ/আরআই