Image description

বগুড়ার আদমদীঘিতে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশত মানুষের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রেজাউল ইসলাম বাবু নামে এক ‘আদম ব্যাপারীর’ বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। ভুক্তভোগীদের করা মামলায় বর্তমানে অভিযুক্ত বাবু জেলহাজতে থাকলেও তার সহযোগীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদীরা।

অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম বাবু উপজেলার সদর ইউনিয়নের করজবাড়ী গ্রামের মৃত ফুরুজ আলীর ছেলে। তার প্রতারণার জালে ফেঁসে কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এখন ঋণের বোঝা টানছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভালো বেতন ও উন্নত পরিবেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আদমদীঘির কুসম্বী, পাঁল্লা, বিনসারা এবং পার্শ্ববর্তী রাণীনগর উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন বাবু। 

কুসম্বী গ্রামের জিল্লুর রহমান জানান, অভাব মেটানোর আশায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বাবুকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বিনসারা গ্রামের প্রশান্ত ইসলাম। তাকে পোল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন বাবু। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এরপর ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল কিছু ভুয়া কাগজপত্র ও পোল্যান্ডের জাল ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে প্রশান্তকে ভারতের হরিদাসপুর-আগরতলা বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। সেখানে বাবুর লোক তাকে পোল্যান্ড পাঠাবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কেউ না আসায় দিশেহারা হয়ে ৬ এপ্রিল বাড়িতে ফিরে আসেন প্রশান্ত।

পরবর্তীতে টাকা ফেরত না পেয়ে প্রশান্ত ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রেজাউল ইসলাম বাবুসহ তার দুই ভাই রুহুল আমিন উলা ও আবুল কাশেম ওরফে লাদুকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ভিত্তিতে গত ৫ মে আদমদীঘি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও তার ভাই ও সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে বাদিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা উদ্ধারসহ এই প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর