সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘতর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মরণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬১৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন করে মোট ২ জন হামের উপসর্গে মারা গেছে। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৪৩২ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে মোট ৭ হাজার ১৫০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৫৩ হাজার ৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে মোট ৩৮ হাজার ৫৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সঠিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৩২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনা এবং শরীরে উচ্চমাত্রার জ্বর বা লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments