Image description

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সফরের আগেই ইরান ইস্যুতে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। 

বুধবার (১৩ মে) ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসন বা হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চীনের সাহায্যের প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।

ইরান সংঘাত নিরসনে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকাকে খাটো করে দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় না ইরানের ব্যাপারে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে। আমরা যেকোনো উপায়েই জিতব—তা শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে।” 

তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তেহরানের সঙ্গে চলমান বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র একাই বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিপরীতমুখী অবস্থান
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও স্থায়ী শান্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল করুক এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নিক। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, মার্কিন অবরোধের অবসান এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই দাবিগুলোকে ‘আবর্জনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে এই অঞ্চল থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য প্রতিবেশী ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্যান্য দেশও একই ধরনের ব্যবস্থার কথা ভাবছে, যা এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি দিতে পারে।

এদিকে, গত মাসে মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তারা একমত হয়েছিলেন যে, কোনো দেশই এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী যানের ওপর ‘টোল’ আদায় করতে পারবে না। তবে ইরানের অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা চীন এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
অর্থনৈতিক চাপের মুখে অনড় ট্রাম্প

এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্য, বাড়ি ভাড়া ও বিমান ভাড়া বাড়ার কারণে সাধারণ আমেরিকানরা অর্থনৈতিক সংকটে থাকলেও ট্রাম্পের দাবি, এই চাপ তাকে ইরানের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য করবে না।

ট্রাম্প বলেন, “আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছি না। ইরানের ক্ষেত্রে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। এটাই একমাত্র বিষয় যা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ট্রাম্পের এমন মন্তব্য খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।