Image description

দেশের সাড়ে ১৮ কোটিরও বেশি মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর জন্য আসছে বড় ধরনের স্বস্তির খবর। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত এক শতাংশ ‘সারচার্জ’ বাতিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে সিম কর কমানো এবং কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের আভাস পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থায়নের লক্ষ্যে মোবাইল সেবার ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছিল তৎকালীন সরকার। ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর চার বছর পার হলেও এখনো গ্রাহকদের এই সারচার্জ গুণতে হচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল গ্রাহকদের ১০০ টাকা রিচার্জ করলে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ মিলিয়ে প্রায় ৪২ টাকাই কর হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। অর্থাৎ ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহক সেবা পান মাত্র ৫৮ টাকার।

আগামী বাজেটে এই করের বোঝা কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করের চাপ কমলে মোবাইল অপারেটরগুলো ভয়েস কল এবং ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিটি নতুন সিম কেনা বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে ৩০০ টাকা কর দিতে হয়, সেটিও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মোবাইল অপারেটরগুলোর তথ্যমতে, গত ১০ বছরে তারা সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র সারচার্জ থেকেই আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। মোবাইল অপারেটররা বলছেন, সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো মোবাইল গ্রাহকদের ওপর থেকে করের বোঝা কমবে।

এদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটাতে বর্তমানে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘ভোক্তার কাছ থেকে আমরা ৩৮ শতাংশ ট্যাক্স নিচ্ছি, অথচ অনেক বড় কোম্পানির কাছ থেকে মাত্র ২ শতাংশ বা ৪ শতাংশ নেওয়া হচ্ছে—এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। এই অসামঞ্জস্য দূর করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর এবং প্রায় আড়াই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। শুল্ক কমানোর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই