পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে পরিচালিত বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে মঙ্গলবার (১২ মে) জোন সদর প্রাঙ্গণে রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে মহালছড়ির বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা প্রায় ১১০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। ওই ক্যাম্পের ফলো-আপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বাছাইকৃত রোগীদের মাঝে উন্নতমানের চশমা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
কার্যক্রমের আওতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মাঝে চশমা বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ড্রপ ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ছানি আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মহালছড়ি জোনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে অর্থের অভাবে কেউ দৃষ্টিশক্তি হারাতে না হয়।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক বৃদ্ধা বলেন, “চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো দেখতে পেতাম না। শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নেই। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ পেয়ে আমি খুবই খুশি।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে। ফলে পাহাড়ি জনগণের মাঝে আস্থা ও ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ছানি আক্রান্ত রোগীদের পর্যায়ক্রমে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments