Image description

একদিকে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা চলছে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর এক মর্টার হামলায় ২০ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে শুক্রবার সকালে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

নিহত সৈনিকের নাম স্টাফ সার্জেন্ট নেগেভ দাগান। তিনি ইসরায়েলের গোলানি ব্রিগেডের ১২তম ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষিপ্রধান এলাকা ডেকেলের বাসিন্দা ছিলেন। 

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ছোঁড়া একটি মর্টারের গোলা সরাসরি আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৯ জন ইসরায়েলি সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে দাগান ছিলেন ষষ্ঠ নিহত সৈন্য।

যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা থামছে না। বৃহস্পতিবার উত্তর ইসরায়েলের রোশ হানিকরা এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরক ড্রোন হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলি বাহিনী এখন বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ‘জালের শিট’ (Net sheets) স্থাপন করছে। এছাড়া নতুন হামলার আশঙ্কায় শুক্রবার সকালে দক্ষিণ লেবানন থেকে স্থানীয়দের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইডিএফ।

রণক্ষেত্রে উত্তজনা থাকলেও ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফার সরাসরি আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বৃহস্পতিবার দিনভর চলা এই বৈঠকে অংশ নেন লেবাননের রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত সাইমন কারাম এবং ইসরায়েলের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়োসি দ্রাজনিনসহ উভয় দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

শান্তি আলোচনার মূল সংকট এখন হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিনিময়ে লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি করছে। অন্যদিকে ইসরায়েল আগে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের অস্ত্র সমর্পণের কোনো প্রশ্নই আসে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এ বছরই একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি সম্ভব। তিনি শীঘ্রই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশ দুটি কার্যত যুদ্ধাবস্থায় থাকলেও, বর্তমানের এই উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগকে ঐতিহাসিক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টাইমস অব ইজরাইল