প্রবাসী স্বামীকে হত্যা, মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা
শরীয়তপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে এক প্রবাসী স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ড্রামে সংরক্ষণ এবং পরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জিয়া সরদার সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। আটক আসমা আক্তার তার স্ত্রী। পুলিশ জানায়, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতর রাখা হয় কয়েকদিন। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশাযোগে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, দেহের কিছু অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের কয়েকটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও চারটি হাত-পায়ের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ নিহত জিয়া সরদারের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্বজন শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, “প্রবাসে থাকাকালে আমার ভাই ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফিরে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযুক্ত আসমা আক্তারের দাবি, স্বামী প্রায়ই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




Comments