ফায়ার সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে ২০ নতুন স্টেশন ও ১০০ অ্যাম্বুলেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এই বাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে বর্তমানে ২০টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আরও ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে বর্তমানে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই ২০টি নতুন স্টেশনের পাশাপাশি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করা এবং তাদের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি অত্যাধুনিক একাডেমি স্থাপন করা।”
সেবা সহজীকরণের লক্ষে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ‘ই-ফায়ার লাইসেন্স’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আবাসন সংকট দূর করতে মিরপুর ও সদরঘাটে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ ও ‘ফ্রেশ মানি’র বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের সাহসিকতার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিনির্বাপণ করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে। টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন কর্মীসহ যারা অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।”
অনুষ্ঠানে সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে পদক তুলে দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments