Image description

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে যারা দেশটির নাগরিকত্ব পেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজ দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানাতে হবে এবং এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র (ডিক্লারেশন) জমা দিতে হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে এই নতুন নির্দেশনা সংবলিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের নাগরিক হতে চাওয়া কোনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বা আফগান নাগরিকের কাছে নিজ দেশের কোনো বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকা চলবে না। যদি আবেদনকারীর কাছে বৈধ পাসপোর্ট থাকে, তবে আবেদনের সময় ওই পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ এবং মেয়াদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তার কাছে থাকা বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টটি নিকটস্থ ডাক বিভাগের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্টের কাছে জমা দিয়ে দেবেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৯ সালের বিধিমালার ১সি তফসিলে এই নতুন অনুচ্ছেদটি যুক্ত করেছে। উল্লেখ্য, এই ১সি তফসিলটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য, যারা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ সালে ভারত সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) জারি করেছিল। ওই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে উল্লিখিত তিনটি দেশ থেকে ভারতে আসা নথিপত্রহীন অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়। এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করতেই পাসপোর্টের তথ্য জমার এই নতুন নিয়ম চালু করা হলো।

মানবকণ্ঠ/আরআই