Image description

বিদেশের পর এবার ঘরের মাঠেও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রাজত্ব দাপুটে পারফরম্যান্সে আরও একবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল তারা। একইসঙ্গে গড়ল টানা ৪ টেস্ট জয়ের ইতিহাস। 

অপেক্ষা ছিল মাত্র ৩ উইকেটের। সেই অপেক্ষার প্রহর কিছুটা দীর্ঘ হলেও শেষ পর্যন্ত সিলেটে ইতিহাস গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য এক গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৭ রান। পঞ্চম দিন সকালে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান, আর বাংলাদেশের চাই মাত্র ৩ উইকেট। তবে দিনের শুরুতে পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সাজিদ খান বেশ সাবলীল ব্যাটিং শুরু করলে কিছুটা শঙ্কা জাগে বাংলাদেশ শিবিরে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ৪ রানে নাহিদ রানার বলে স্লিপে রিজওয়ানের সহজ ক্যাচ মেহেদী হাসান মিরাজ মিস করলে ম্যাচ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে।

রিজওয়ান ও সাজিদ খান যখন বড় জুটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাজিদ খানকে (২৮) আউট করে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। এই উইকেটের মাধ্যমেই ক্যারিয়ারের আরও একটি ‘ফাইভ উইকেট হল’ বা পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন তাইজুল।

সাজিদ আউটের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সেঞ্চুরির পথে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। শেষ ব্যাটার খুররাম শেহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই তাইজুল ইসলামই।

মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিলেটেও সেই আধিপত্য ধরে রাখল বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয়ের ফলে পাকিস্তান দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দীর্ঘদিনের খরা কাটাল টাইগাররা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫৮ (লক্ষ্য ৪৩৭)
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।