Image description

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মারিশ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি উপজেলা প্রশাসন সিলগালা করে দেওয়ার পরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় খোলা বারান্দা ও পাশের জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান চলছে খোলা বারান্দায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের আরেকটি ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একটি কক্ষে পর্দা টানিয়ে একই সময়ে দুটি শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

‎বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়,“বৃষ্টির সময় আমাদের কে বারান্দা থেকে অফিস কক্ষে নিয়ে ক্লাস করানো হয়। তখন অনেক কষ্ট হয় এবং ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না।”

‎এদিকে অভিভাবকরা বলছেন, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, “রুম সংকটের কারণে একই কক্ষে পর্দা দিয়ে দুই শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। একসঙ্গে দুটি শ্রেণির পাঠদান চলায় শব্দের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।”

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের মূল্যায়নে মারিশ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে পাশের একটি ভবনের ছোট কক্ষ ও বারান্দায় অস্থায়ীভাবে পাঠদান চললেও এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত পুনর্নির্মাণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর শুক্কুর বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটিতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রকৌশলীরা ভবনটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। আমরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

‎এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, ‎“মারিশ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পশ্চিম পাশ দেবে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করি। পরে ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটিতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

‎বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকেও জানানো হয়েছে। প্রকৌশলীর চূড়ান্ত মতামত অনুযায়ী ভবনটিতে ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশের খালি জায়গায় ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ ফান্ডের আওতায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।