রাশিয়া-অধিকৃত পূর্ব ইউক্রেনে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোর ১টার পর শুরু হওয়া এই বিশাল অভিযানে প্রায় ৬০০টি ড্রোন এবং আকাশ, সমুদ্র ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপিত ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে রাশিয়ার অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘ওরে্পনিক’ (Oreshnik) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেছেন, শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুতগতির এই ক্ষেপণাস্ত্রকে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আটকানো সম্ভব নয়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে ২ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলের প্রধান আরও ২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রাজধানীর অন্তত ৪০টি স্থানে আবাসিক ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অফিস, দোকানপাট, একটি মেট্রো স্টেশনের লবি এবং শহরের মূল কেন্দ্র ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স স্কোয়ার’-এ একটি ডাকঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫৪৯টি ড্রোন এবং ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া আরও ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি রুশ-অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্কে একটি কলেজের ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল মস্কো। সেই ঘটনার ‘শাস্তি’ দেওয়ার অঙ্গীকারের পর কিয়েভে এই পাল্টাহামলা চালানো হলো।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরে চালানো ওই ড্রোন হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা, যেখানে অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছিলেন।
এই যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় কিয়েভে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগেই হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। কিয়েভের বাসিন্দারা বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।




Comments