ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনার মধ্যেই দেশটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার (২৫ মে) দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ‘আত্মরক্ষার্থে’ তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, "চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই হামলা চালানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।" উল্লেখ্য, ওই এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থিত।
মার্কিন হামলার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি এবং অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে দ্রুত কোনো চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন এবং চুক্তির বিষয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন।
গত সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যদিও পরবর্তীতে তিনি সুর নরম করে বলেন, আলোচকদের 'তাড়াহুড়া' করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যেই একটি সমঝোতা হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ চেষ্টা নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব তেলের বাজারে।




Comments