Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিশেষ ঘোষণার পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক পড়েছে। যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তারা ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে গেলে কোনো মামলা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাসে প্রতিদিন শত শত মানুষ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে গত এক সপ্তাহ ধরে তিল ধারণের জায়গা নেই। যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা থেকে বিভিন্ন সময় ভারতে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করা নারী, পুরুষ ও শিশুরা এখন নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

তাদেরই একজন খুলনার বাসিন্দা বাচ্চু মুন্সি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ভারতে কাটিয়েছেন তিনি। বিয়ে করেছেন, সন্তান হয়েছে, এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময় তাঁর নাম বাদ পড়ে যায়। বাচ্চু বলেন, ‘ভেবেছিলাম এখানেই স্থায়ী হব, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বাধ্য হয়েই সব ফেলে খুলনা ফিরে যেতে হচ্ছে।’

সীমান্তে জড়ো হওয়া নাজমা ও রাইসা পারভিনের মতো অনেকেরই অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। পুলিশি ঝামেলা এবং বাড়িওয়ালাদের আপত্তির কারণে তারা সেখানে আর টিকে থাকতে পারছেন না। বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা দাবি করা রাইসা বলেন, ‘বিজেপি জেতার পর থেকেই আমাদের ওপর চাপ বাড়ছে। অনেক আগে আমার বাবা-মা ফিরে গেছেন, এখন আমি আর আমার সন্তানদের নিয়ে ফিরে যেতে চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুরুতে প্রতিদিন ১০-১২ জন করে মানুষ আসলেও এখন এই সংখ্যা কয়েক শতে ঠেকেছে। বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ তাদের একটি অস্থায়ী ঘরে রেখে পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছে। নথিপত্র যাচাই শেষে তাদের স্বরূপনগরের বিভিন্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে পাঠানো হচ্ছে। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অথবা সীমান্তের নির্দিষ্ট ‘হাঁটা পথ’ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিএসএফ বা স্থানীয় প্রশাসন এই প্রত্যাবাসন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও হাকিমপুরের বাসিন্দারা বলছেন, পরিচয় যাচাই শেষে আমোদিয়া পয়েন্ট দিয়ে অনেককে পার করে দেওয়া হচ্ছে। ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশেরই দাবি, তারা আর কোনো দিন ‘চোরাই পথে’ ভারতে ফিরবেন না। ফিরলে বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়েই আসবেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মানবকণ্ঠ/আরআই