ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের থাবা থেকে বাঁচাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 'বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬' উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছে এবং এর ধারাবাহিকতায় আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তামাক ও নিকোটিন কেবল আসক্তিই তৈরি করে না, বরং এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমা-নাটকসহ সব মাধ্যমে তামাকের প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে তামাক কোম্পানিগুলোর চতুর প্রচারণা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও পাবলিক প্লেসে ধূমপানের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এসব আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, “একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।”
বাণীর শেষে তিনি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের মানুষকে তামাকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: বাসস
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments