Image description

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত তা সমন্বয় (হ্রাস) করা হবে।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে রবিবার (৩১ মে) রাতে ডিজেল ছাড়া অন্য সব জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি যে, একান্ত উপায়হীন না হলে সরকার এ ধরনের অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেয় না। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। তবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা ডিজেলের দাম বাড়াইনি, কারণ দেশে মোট জ্বালানি ভোগের ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এর পেছনে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘অনেকের অভিজ্ঞতা আছে যে দাম বাড়লে আর কমে না। কিন্তু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, যেহেতু এটি একটি নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে, তাই বিশ্ববাজারে দাম কমার সাথে সাথে আমরাও দাম কমিয়ে দেব। জনগণের কষ্ট লাঘবে আমরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হব না।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষি ও পরিবহন খাতে বহুল ব্যবহৃত প্রতি লিটার ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে।

আগামী বাজেটের আগে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যতটা সম্ভব জনজীবনকে সহনীয় রাখার চেষ্টা চলছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই