Image description

হলিউডের সোনালী যুগের অবিসংবাদিত প্রতীক এবং চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা আইকন মেরিলিন মনরোর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজের শহর হলিউডে সোমবার (১ জুন) থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ এক উৎসবমুখর উদযাপন।

১৯২৬ সালের ১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মশতবর্ষ স্মরণে মাসব্যাপী নানা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।  

হলিউডের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চাইনিজ থিয়েটার-যেখানে ১৯৫৩ সালের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘জেন্টলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’-এর সহ-অভিনেত্রী জেন রাসেলের সঙ্গে মেরিলিন মনরোর হাতের ছাপ চিরস্থায়ী করে রাখা আছে-সেখানে ভক্তরা সমবেত হয়ে গেয়ে উঠবেন ‘হ্যাপি বার্থডে’। 

এই গানটি মূলত ১৯৬২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে গাওয়া মনরোর সেই বিখ্যাত ও মোহময়ী জন্মদিনের সুরকে স্মরণ করিয়ে দেবে। উৎসবের অংশ হিসেবে এই পর্যটনকেন্দ্রে ১০০টি গোলাপ ফুল এবং একটি বিশেষ কেক রাখা হবে।  

রোববার (৩১ মে) থেকেই টিশেলটাউনের (হলিউড) এই প্রিয় কন্যার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়েছে। একাডেমি মিউজিয়ামে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। 

প্রদর্শনীতে মনরোর জীবনের শত শত দুর্লভ স্মারক স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো ‘জেন্টলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’ সিনেমায় ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ পারফরম্যান্সের সময় পরা তার সেই বিশ্বখ্যাত গোলাপি পোশাকটি।

এছাড়া পুরো জুন মাস জুড়ে একাডেমি মিউজিয়াম মনরোর ক্যারিয়ারের সেরা চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শন করবে। যার মধ্যে রয়েছে- দ্য অ্যাসফল্ট জঙ্গল (১৯৫০), নায়াগ্রা (১৯৫৩), দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫), সাম লাইক ইট হট (১৯৫৯), দ্য মিসফিটস (১৯৬১)। 

এদিকে চলতি সপ্তাহের ৪ জুন, বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জুলিয়েন’স অকশনস আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘১০০ ইয়ার্স অব মেরিলিন’ নামক বিশেষ নিলাম। এখানে মনরোর ব্যবহৃত প্রায় ২০০টি ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিলামে তোলা হবে। 

এর মধ্যে রয়েছে তার অপ্রকাশিত কিছু ছবি, তার অসমাপ্ত শেষ চলচ্চিত্র ‘সামথিংস গট টু গিভ’-এর হাতে লেখা নোটসহ মূল স্ক্রিপ্ট, নিজের হাতে লেখা রান্নার রেসিপি এবং তার প্রিয় ব্র্যান্ড এলিজাবেথ আরডেনের লিপস্টিক। 

মেরিলিন মনরোর শৈশব ছিল বেশ কষ্ট ও অস্থিরতায় ভরা। এতিমখানা এবং বিভিন্ন পালক পরিবারের (ফস্টার হোম) আশ্রয়ে বড় হওয়া মনরো মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি কারখানায় কাজ করার সময় এক আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়েন এই অভিনেত্রী। এর পরপরই মডেলিং জগতে পা রাখেন, স্বামীকে ডিভোর্স দেন এবং নিজের বাদামী চুল প্ল্যাটিনাম ব্লন্ড (সোনালী) রঙে রূপান্তর করে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেন। ফক্স স্টুডিওর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর, মাত্র ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি নিজেকে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উল্লেখ্য, পর্দার পেছনে মনরো কেবল একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সাহসী নারী। তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা গঠন করেছিলেন এবং নিউইয়র্কের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাক্টরস স্টুডিওতে অভিনয় শিখেছিলেন।

১৯৫০-এর দশকে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্সের সঙ্গে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি ‘দ্য গার্ল ইন পিঙ্ক টাইটস’ সিনেমায় অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ হিসেবে তিনি চিত্রনাট্যকে নিম্নমানের এবং সহ-অভিনেতা ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার চেয়ে নিজের বেতন তিন গুণ কম (যা তার কাছে অন্যায় মনে হয়েছিল) বলে উল্লেখ করেছিলেন। 

বর্তমান যুগের ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন বিশ্ব বিনোদন জগতকে কাঁপিয়ে দেওয়ার প্রায় অর্ধশতাব্দী আগেই, মনরো হলিউডের সেই ‘নেকড়েদের’ (শিকারী পুরুষ) বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন যারা নবাগত নারী প্রতিভাদের ওপর চড়াও হতো।

১৯৫০-এর দশকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই মেগা স্টার ১৯৬২ সালের আগস্টে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার ব্রেন্টউডের বাড়িতে অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের (ওভারডোজ) কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর এত বছর পরও, তার জন্মশতবার্ষিকীতে হলিউড প্রমাণ করল-মেরিলিন মনরো রুপালি পর্দায় আজও সমাদৃত ও অমর।