Image description

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। শুনানির একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, আমাকে মাফ করে দিয়েন। তবে আমার স্ত্রী কোনো দোষ করেনি।’

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কড়া নিরাপত্তায় সকাল সোয়া ৮টায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে বিচারক ১৬ জন সাক্ষীর রেকর্ডকৃত সাক্ষ্য আসামিদের পড়ে শোনান।

শুনানিতে প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করলেও অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ শুনে সোহেল রানা ভেঙে পড়েন এবং বিচারকের সামনে দোষ স্বীকার করেন। তবে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে ‘ডলার’ নামে নতুন একজনের সম্পৃক্ততার দাবি তুলেছেন এবং বারবার তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু এবং আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ।

উল্লেখ্য, গত ২ জুন এই মামলায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার এবং ছোট বোন রাইসা আক্তারসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গত ১ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেশী দম্পতি সোহেল ও স্বপ্না কৌশলে শিশুটিকে তাদের ঘরে নিয়ে এই জঘন্য অপরাধ ঘটায়। পুলিশ ঘটনার দিনই স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে নিহতের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই