যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানির লক্ষ্যে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল আজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। সরকারের পক্ষে তিনি ওই চুক্তিতে সই করবেন। আগামী ১২ বা ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্বালানি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এলপিজির দাম তুলনামূলকভাবে কম। সেখান থেকে এলপিজি আমদানি করা গেলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সরকারি সরবরাহ থাকলে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকার প্রাথমিকভাবে মাসে ৪৫ হাজার টন এবং পরবর্তীতে ৭৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা দেড় লাখ টনের বেশি। এর প্রায় ৯২ শতাংশই আমদানি করতে হয় এবং বাজারে সরবরাহ করে ৪০টিরও বেশি বেসরকারি কোম্পানি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজির দাম এক লাফে ৪০০ টাকার বেশি বেড়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো বাজার বেসরকারি খাতে থাকায় কিছু কোম্পানি একত্র হয়ে দামের কারসাজির সুযোগ পেতে পারে।
চুক্তি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলপিজি কেনায় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে তুলনামূলক কম দামের কারণে দেশটি থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি এলপিজি ব্যবসা না করলেও বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে সহযোগিতার জন্য এ সমঝোতা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র আরও জানায়, মাতারবাড়ি বন্দরে বড় জাহাজ থেকে এলপিজি খালাসের সক্ষমতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ সেখানে প্রায় সময় কয়লাবাহী জাহাজ অবস্থান করে থাকে।




Comments