ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) আজ রোববার বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাবের কারণে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত হয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই তুলনায় আগামী বাজেট প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হচ্ছে।
সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তবে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, সঞ্চয়পত্র ও অনুদানের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি রাখা হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও সাংস্কৃতিক খাতে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ গঠনে বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।




Comments