Image description

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রোববার (৭ জুন)। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত বহুল আলোচিত এই মামলার রায় প্রদান করবেন। মাত্র ১৬ দিনের অভাবনীয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয় শিশু রামিসা। ২০ মে মামলা হওয়ার পর থেকে আজ ৭ জুন পর্যন্ত মাত্র ১৬ দিনের মাথায় রায় হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন আদালতে উঠে আসে এই হত্যাকাণ্ডের অবর্ণনীয় এবং লোমহর্ষক চিত্র। রামিসার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই মো. ইকবাল হোসেন জবানবন্দি দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, আসামিদের শোবার ঘরের খাটের নিচে রামিসার মস্তকহীন দেহ পড়ে ছিল। আর ঘরের এক কোণে একটি রক্তমাখা বালতির ভেতর পানির মধ্যে রাখা ছিল শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে রামিসার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিল।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা: নাসাদ জাবিন আদালতকে জানান, রামিসার ওপর যে পাশবিকতা চালানো হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। শিশুটির নাক ছিল ভাঙা, দুই ঠোঁট কাটা এবং বুকের বাম পাশে ছিল প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন। এছাড়া হত্যার আগে তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপন অঙ্গ ও দেহ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। মূলত গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই তার মৃত্যু ঘটে।

রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারের সাক্ষ্যে আদালত কক্ষের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মা পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি প্রতিবেশী সোহেল ও স্বপ্নার ঘরের সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা দরজা খোলেনি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়ের খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ইতিমধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান জানান, একটি কমন বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামিরা মৃত ভেবে লাশ গুমের জন্য দেহটি খণ্ড-বিখণ্ড করতে শুরু করে। আলামত নষ্ট করতে তারা রক্ত ধুয়ে ফেলারও চেষ্টা করেছিল।

পুরো দেশ আজ এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আজ বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই