Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠকের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোজতবা খামেনির কোনো বৈঠক হবে না।

শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ট্রাম্প এই সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে নিজের জন্য ‘সম্মানজনক’ হিসেবে অভিহিত করলেও ইরান বিষয়টিকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।

সাক্ষাৎকারে রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে ওয়াশিংটন মূলত এক অন্ধকার ও অন্তহীন সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে। হোয়াইট হাউসের বোঝা উচিত, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার খরচ অনেক কম।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ ও সামরিক হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে ইরান এই যুদ্ধকে কেবল অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না। সংঘাত ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এমনকি ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করে রেজায়ি বলেন, “আলোচনার বল এখন আমেরিকার কোর্টে। কিন্তু ট্রাম্পের অস্পষ্ট কথাবার্তা ইরানের ওপর কোনো কাজ করবে না।” তিনি ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। আলোচনার জন্য ন্যূনতম সদিচ্ছার পরীক্ষা হিসেবে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদগুলো দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোহসেন রেজায়ি বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ও এনপিটি মেনেই কাজ করছে। তবে ট্রাম্প যেহেতু এর আগে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছিলেন, তাই তাঁর সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে বসার ব্যাপারে ইরানের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে তিনি বলেন, এই জলপথটি ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অংশ। সেখানে পরিবেশ ও ট্রানজিট ফি আদায়ের পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। এখানে বিদেশি কোনো সামরিক উপস্থিতি বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করে আইআরজিসির সাবেক এই প্রধান কমান্ডার বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা ও পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে প্রথাগত যুদ্ধের দিন শেষ। এখন সৃজনশীল উপায়ে পরিচালিত ‘অসম যুদ্ধ’ অনেক বেশি কার্যকর। তিনি দাবি করেন, ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর করে না; বরং তাদের স্থল বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্বকে ইরানের আসল শক্তি দেখানোর জন্য তাঁরা মার্কিন স্থল অভিযানের অপেক্ষায় ছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র: প্রেস টিভি।

মানবকন্ঠ/আরআই