‘দোষীদের শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, সেই দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমার মতো সন্তানহারা বাবাদের কলিজা কিছুটা শীতল হবে।’ রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় শুনতে এসে আদালত প্রাঙ্গণে এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম।
রোববার (৭ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর আদালত এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আব্দুস সালাম বলেন, ‘সরকার এমন আইন করুক যেখানে কোনো ফাঁকফোকর থাকবে না। আমি ভয় পাচ্ছি, বিচার প্রক্রিয়া যদি এভাবে ঝুলে থাকে, তবে হয়তো আমার ছেলে মিরাজ হত্যার বিচার আমি কোনোদিন পাব না।’
শহীদ মিরাজের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ সব প্রমাণ তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ভেতর থেকে ছোড়া গুলিতে মিরাজ লুটিয়ে পড়েছিল—এটি এখন সবার জানা। তারপরও কেন চার্জশিট দিতে দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান মিরাজ ছিলেন পুরো সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা এবং ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি ঢাকায় এসে পড়াশোনার পাশাপাশি যাত্রাবাড়ীর একটি মোবাইল রিচার্জের দোকানে কাজ করতেন। পরিবারের কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝাও ছিল তার কাঁধে।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ভিডিও করার সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন মিরাজ। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ছেলের স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়া আব্দুস সালাম বলেন, ‘মিরাজের মৃত্যুর পর আমাদের একেকটা দিন যেন একেকটা বছরের মতো কাটছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই না, আমরা চাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সরাসরি বাস্তবায়িত হোক। বিচার কেবল কাগজের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।’
যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংগঠিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত দৃশ্যমান করার জন্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments