টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত মনে করেন, জীবনের প্রতিটি অনুভূতি লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। অবসাদ, কাউন্সেলিং কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রাম-এসব বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। নতুন ওয়েব সিরিজ ব্রাউন মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন, সাফল্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অকপট মন্তব্য করেছেন এই অভিনেতা।
সিরিজটিতে বলিউড অভিনেত্রী কাশিরমা কাপুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে যীশু বলেন, “কারিশমা ভীষণ মিষ্টি ও নম্র একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময় গোবিন্দ ও ডেভিড ধাওয়ানের যুগের নস্টালজিয়া ফিরে এসেছিল। তবে দর্শক ‘ব্রাউন’-এ এমন এক কারিশমা কাপুরকে দেখতে পাবেন, যা আগে কখনো দেখেননি।”
বলিউড ও টালিউডের কাজের পরিবেশের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘পার্সোনাল স্পেস’-এর প্রতি মানুষের সম্মানবোধ বেশি। সেখানে ব্যক্তিগত প্রশ্ন এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে, পরিচিত হলেই ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়ার প্রবণতা এ অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের কাছে কোনো বিশেষ প্রত্যাশা নেই বলেও জানান যীশু। তাঁর ভাষায়, “শিল্পীদের শিল্পীর মতো করে থাকতে দিলেই বোধহয় সবচেয়ে ভালো হয়।”
সাফল্যের মধ্যেও কীভাবে নিজেকে স্থির রাখেন-এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, এটি কোনো বিশেষ অনুশীলন বা থেরাপির ফল নয়। বরং পরিবার ও চারপাশের মানুষের কাছ থেকেই তিনি এই শিক্ষা পেয়েছেন। “আমি খুব ভালো কিছু মানুষের সান্নিধ্যে বড় হয়েছি। তাই এই কৃতিত্ব আসলে তাদেরই,” বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন যীশু সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “ডিপ্রেশন মানুষের জীবনে আসতেই পারে, এটা খুব স্বাভাবিক। আমি নিজেও কাউন্সেলিং করিয়েছি, মনোবিদের কাছে গেছি। এতে লজ্জার কিছু নেই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যক্তিগত পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গত এক দশকে মানুষের জীবনযাত্রা ও সামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
নিজেকে এখন অনেক বেশি সাবধানী ও মেপে কথা বলা মানুষ মনে করেন কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে যীশুর জবাব, “আমি খুব হিসাব করে কথা বলি না। যা মনে হয়, সরাসরি বলে দিই। আমি চাইলে মনোবিদের কাছে যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে পারতাম। কিন্তু দিনশেষে আমিও একজন মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “এই সমাজে কেউ পুরোপুরি সাদা বা কালো নয়, সবাই কোনো না কোনোভাবে ধূসর। আমরা নিজেদের যতটা চিনি বলে ভাবি, বাস্তবে ততটা চিনি না। নিজেকে ভালো না বাসলে কিংবা নিজে ভালো না থাকলে অন্য কাউকে ভালো রাখা সম্ভব নয়।”
অবসাদ, আত্মসমালোচনা ও আত্মভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরে যীশু সেনগুপ্তর এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর মতে, নিজের সঙ্গে সৎ থাকাটাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।




Comments