Image description

ভারতের বিচারপতির একটি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য বড় এক রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন থেকে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার তরুণের অংশগ্রহণে এক বিশাল গণবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে।

গত মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই অপমানকে পুঁজি করে আম আদমি পার্টির সাবেক সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলী অভিজিৎ দীপকে গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। প্রতিকূল পরিবেশে তেলাপোকার টিকে থাকার ক্ষমতাকে তরুণদের জীবন সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় দলটি। মাত্র কয়েকদিনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী জুটিয়ে নেয় এই ব্যতিক্রমী সংগঠনটি।

শনিবার (৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লিতে পা রাখলে হাজার হাজার তরুণ তাকে স্বাগত জানায়। এরপর দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ হাতে নিয়ে রাজপথে নামে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের স্লোগান ছিল— “তেলাপোকারা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ নীতিনির্ধারকদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছর। এই জেনারেশন গ্যাপ এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব তরুণদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশ এবং স্নাতক পাস করা তরুণদের বড় একটি অংশ (প্রায় ৬৭ শতাংশ) কর্মহীন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ ও ‘ব্লুমবার্গ’-এর বিশ্লেষণী প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ ও নেপালে যেভাবে জেন-জি তরুণদের আন্দোলন সরকার পতন ঘটিয়েছে, ভারতে সিজেপি-র উত্থান মোদী সরকারের ১২ বছরের স্থিতিশীলতাকে সেই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদী এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে, কিন্তু তরুণদের এই সুসংগঠিত ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে বিজেপি সরকারের পতনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

মহারাষ্ট্রের সম্ভাজি নগরের এক দলিত পরিবারের সন্তান অভিজিৎ দীপকে জানান, জাতিগত বৈষম্য ও সামাজিক অসমতার অভিজ্ঞতা থেকেই তার এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, “আমাদের আবর্জনার মতো তুচ্ছ করা হলেও আমরা তেলাপোকার মতো সব পরিবেশে টিকে থাকতে জানি। আমাদের দমিয়ে রাখা যেতে পারে, কিন্তু মুছে ফেলা যাবে না।”

মানবকন্ঠ/আরআই